Chengdu J-10 | FC-20 Upcoming Fighter Jet of Bangladesh Air Force
স্বাগতম সবাইকে বাংলাদেশ মিলিটারি ডিফেন্স –বিএমডি ইউটিউব চ্যানেলে। আজকে আমরা জানবো বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আপকামিং ফাইটার চেংডু জে-১০ সম্পর্কে।
জে ১০ হচ্ছে চীনের তৈরি এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল ফাইটার।এই বিমান তৈরির কাজ শুরু হয় ১৯৮৮ সালে এবং সর্বপ্রথম উড্ডয়ন করে ১৯৯৮ সালে। সোভিয়েত ইউনিয়নের মিগ ২৯ এবং সু ২৭ কে টক্কর দেওয়ার জন্য এই বিমান তৈরির কাজ হাতে নিয়েছিল চীন!
ইযরাইলের বাতিলকৃত লাভি বিমানের সাথে
এর বেশ সাদৃশ্য থাকায় ধারনা করা হয় যে গোপনে ইজরাইল এই বিমানের প্রযুক্তি চীনের
নিকট বিক্রি করেছিল। তবে উভয়ই
দেশই এই তথ্য অস্বীকার করেছে।
২০০৭ সালে সর্বপ্রথম এই বিমান
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। জে-১০ বিমানের এ বি সি তিনটি ভার্সন রয়েছে। জে-১০ বি তে ইঞ্জিনের সমস্যা দূর করা হয়েছে আর জে ১০ সি তৈরি করা
হয়েছে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের জন্য।
এই বিমানের এয়ারফ্রেম তৈরি করা হয়েছে
মেটাল এ্যালোয় এবং কম্পোজিট মেটারিয়েল দিয়ে যার ফলে এর ওজন কম এবং বেশ শক্তিশালী। অস্ত্রছাড়া ওজন সাড়ে নয় টনের একটু বেশি।
এই বিমানের প্রথম ভার্সনে রাশিয়ার তৈরি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছিল কিন্তু পার্ফমেন্সে সন্তুষ্ট না হয়ে দ্বিতীয় ভার্সন জে ১০বি তে নিজেদের তৈরি WS-10 টার্বোফ্যান ইঞ্জিন ব্যবহার করেছে যার ড্রাই থ্রাস্ট ৮৯.১৭ কিলোনিউটন এবং আফটার বার্নারের পর সেটা হয় ১৩০ কিলোনিউটন । যা এই বিমানকে ম্যাক ২.২ গতি তুলতে সাহায্য করে।
Full authority digital engine control
system থাকার ফলে এই বিমানের ইঞ্জিন হতে কালো ধোঁয়া বের হয় না। জে ১০ এর গ্লাস ককপিটে রয়েছে তিনটি
মাল্টিফাংশনাল ডিসপ্লে। সেই সাথে
হেডস আপ এবং হেলমেট মাউন্টেড ডিসপ্লেও রয়েছে। যার ফলে পাইলট যেদিকে তাকাবে কম্পিউটার সেদিকে
মিসাইল তাক করবে।
এর ক্যানোপাই বাবল আকৃতির। যার সাহায্য পাইলট ৩৬০ ডিগ্রী ঘুরে সবকিছু
দেখতে পারে । জিরো-জিরো
ইজেক্টসন সিস্টেম থাকার ফলে বিমান ভূমিতে থাকা অবস্থায়
কোন গতি না থাকলেও পাইলট ইজেক্ট করতে পারবে। এতে রয়েছে ফ্লাই বাই ওয়্যার ফ্লাইট কন্ট্রোল
সিস্টেম যা বিমানকে নিয়ন্ত্রন করে এমনকি পাইলট কোন ভূল
ইনপুট দিলে এটি তা সংশোধন করে দেয়।
এই বিমানের এক্টিভ ইলেকট্রিক্যালী
স্ক্যান্ড অ্যারে মাল্টিমুডেড ফায়ারকন্ট্রোল রাডার একই সাথে দশটি টার্গেট
ট্র্যাকিং করতে পারবে এবং চারটিকে প্রতি হত করতে পারে।
এই বিমানে রেডিও ওয়েব শোষনকারী পদার্থ
ব্যবহার করা হয়েছে যা বিমানের রাডার ক্রস সেকশন কমিয়ে দিয়েছে । এর ইনফ্রারেড সার্চিং এন্ড
ট্র্যাকিং সিস্টেম প্রতিপক্ষের বিমান হতে নির্গত তাপ থেকে শত্রুর বিমান ডিটেক্ট
করতে পারে। এতে জ্যামিং পড ও ব্রেক প্যারাসুট রয়েছে।
জে ১০ অভ্যন্তরিন ভাবে ৪৫০০ লিটার
জ্বালানী বহন করতে পারে। তবে
এক্সট্রানাল ফুয়েল ট্যাংকের সাহায্যে তা বাড়ানো যায়। এছাড়াও আকাশেও রি ফুয়েলিং করা
যাবে।
এবার আসি এর অস্ত্রশত্রের দিকেঃ
মোট ১১ টি হার্ডপয়েন্টে মোট ৬০০০ কেজি
এয়ার টু এয়ার, এয়ার টু গ্রাউন্ড, এন্টি
শিপ, ক্রুজ, এন্টি রেডিয়েশন
মিসাইল, লেজার গাইডেড বোম, আনগাইডেড
রকেট বহন করতে সক্ষম। এছাড়া একটি ২৩ মিঃমিঃ দুই
ব্যারেলের গান রয়েছে ।
এই বিমানের একটি অসুবিধা হল অস্ত্র নিয়ে এর রেঞ্জ মাত্র ৫৫০ কিঃমিঃ। তবে অস্ত্রছাড়া এর রেঞ্জ ১৮৫০ কিঃমিঃ এবং ১৮
কিঃমিঃ উচ্চতায় উড়তে পারে।
অনেক কথা হল তাই আজকের মত এখানেই শেষ
করছি। ভাল থাকবেন সবাই।
আর
এই বিমানের বাংলা ভাষায় নির্মিত চমৎকার ভিডিও রিভিউ দেখতে চাইলেঃ-

Comments
Post a Comment